মেনু নির্বাচন করুন

গ্রাম আদালত

গ্রাম আদালত ইউনিয়ন পরিষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আদালতের ঝগড়া বিবাদ নিরসনের লক্ষ্যে বৃট্রিশ আমলে ১৯১৯ সালে পল্লী  স্বায়ত্ব শাসন আইনের মাধ্যমে ইউনিয়ন বোর্ডকে দেওয়ানী ওফৌজদারী উভয় প্রকার  মামলার বিচার করার এখতিয়ার দেওয়া হয়।  বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর যদি ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয়  বিচারিক কার্যক্রম করার ক্ষমতা ছিলনা। পরবর্তে ১৯৭৬ সালে গ্রাম আদালত অডির্ন্যান্স ইউনিয়ন পরিষদকে বিচারকরার দায়িত্ব দেওয়া হয়ে। গ্রাস আদালত আইন-২০০৬ অনুসারে প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত থাকবে। গ্রাম আদালতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো ইউনিয়ন অপারেশন ম্যানুয়েল অনুসারে-

 

৬.২ আইন ও বিচারিক সেবা

 

ইউনিয়ন পরিষদের অন্যতম গুরম্নত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে পরিচালনাকরা। গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ অনুসারে, প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত পরিচালিত হবে।গ্রাম আদালত পরিচালনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকা নিমেণ দেওয়া হলো।

 

৬.২.১. গ্রাম আদালতের উদ্দেশ্য

 

১. কম সময়ে, অল্প খরচে স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা;

২. দরিদ্র, অনগ্রসর, নারী, সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও বিচার প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা;

৩. বিবদমান পক্ষসমূহের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা;

৪. বিরোধ নিষ্পত্তির পর বিরোধীয় পক্ষসমূহের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান সৃষ্টি;

৫. স্থায়ীভাবে বিরোধ নিরসন;

৬. উচ্চ আদালতে মামলার চাপ কমানো ও

৭. সামাজিক ন্যায্যতা ও সুশাসন সৃষ্টি।

 

গ্রাম আদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য মামলা

 

(১) ফৌজদারি কার্যবিধি এবং দেওয়ানি কার্যবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন গ্রাম আদালতআইনের তফসিলের প্রম অঙ্কে বর্ণিত বিষয়াবলি সম্পর্কিত ফৌজদারি মামলা এবং দ্বিতীয়অঙ্কে বর্ণিত বিষয়াবলি সম্পর্কিত দেওয়ানি মামলা, বিভিন্ন রকম বিধান না থাকলে, গ্রামআদালত কর্তৃক বিচারযোগ্য হবে এবং কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি আদালতের অনুরূপকোনো মামলা বা মোকাদ্দমার বিচারের এখতিয়ার থাকবে না।

 

(২) গ্রাম আদালত কর্তৃক তফসিলের প্রথম অঙ্কে বর্ণিত কোনো অপরাধের সাথে কোনো মামলাবিচার্য হবে না যদি উক্ত মামলায় আমলযোগ্য কোনো অপরাধের দায়ে কোনো ব্যক্তি দোষীসাব্যস্থ্য হয়ে ইতোপূর্বে গ্রাম আদালত কর্তৃক দন্ড প্রাপ্ত হয়ে থাকেন, যদি-

ক) উক্ত মামলায় কোনো নাবালকের স্বার্থ জড়িত থাকে;

খ) বিবাদের পক্ষগণের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তিতে সালিশের বা বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান

থাকে;

গ) সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কর্তব্য পালনরত কোনো সরকারি কর্মচারী উক্ত বিবাদের

কোনো পক্ষ হয়।

 (৩) যে স্থাবর সম্পত্তির দখল অর্পণের জন্য গ্রাম আদালত কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হয়েছে, ঐ

স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য বা এর দখল পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো মোকাদ্দমা বা

কার্যধারার ক্ষেত্রে (১)-এর বিধানবলি প্রযোজ্য হবে না।

 

৬.২.২. গ্রাম আদালত গঠনের আবেদন (১) যে ক্ষেত্রে এ আইনের অধীন কোনো মামলা গা্র ম আদালত কতর্কৃ বিচারযোগ্য হয় সেক্ষেত্রে বিরোধের যে কোনো পক্ষ উক্ত মামলা বিচারের নিমিত্ত গ্রাম আদালত গঠনের জন্য সিদ্ধামত্ম গ্রহণের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতেপারবেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিখিত কারণ দর্শিয়ে উক্ত আবেদনটি নাকচ নাকরলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে গ্রাম আদালত গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

(২) উক্ত আইনের অধীন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশের বিরম্নদ্ধে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এখতিয়ার সম্পন্ন সহকারী জজ আদালতে রিভিশন করতে পারবেন।

 

৬.২.৩. আবেদনের ফিস

 

তফসিলের প্রথম ভাগের সাথে সম্পর্কিত হলে দুই টাকা এবং দ্বিতীয় ভাগের সাথে সম্পর্কিতহলে আবেদন পত্রের সাথে চার টাকা ফিস জমা দিতে হবে।

 

৬.২.৪ নাকচ আবেদন না-মঞ্জুরের আদেশসহ আবেদনকারীকে ফেরত প্রদান

 

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক যেক্ষেত্রে আবেদন নাকচ হয় সেক্ষেত্রে তা উক্ত নামঞ্জুরের আদেশ সমেত আবেদনকারীর নিকট ফেরত দিতে হবে।

 

৬.২.৫ আবেদন না-মঞ্জুরের আদেশের বিরম্নদ্ধে রিভিশন/আপিল

 

আবেদন না-মঞ্জুর হওয়ার তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে পুন:বিচারের জন্য তা যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন সহকারী জজের নিকট দাখিল করতে হবে।